বাংলায় সর্বপ্রথম, সর্ববৃহৎ ও সর্বাধিক জনপ্রিয় প্রশ্ন-উত্তরভিত্তিক ও সমস্যা সমাধানের উন্মুক্ত কমিউনিটি "হেল্পফুল হাব" এ আপনাকে স্বাগত, এখানে আপনি যে কোনো প্রশ্ন করে উত্তর নিতে পারবেন একদম বিনামূল্যে এবং কোনো প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানা থাকলে তা প্রদান করতে পারবেন। রেজিস্ট্রেশান না করেই অংশগ্রহণ করতে পারবেন তবে, সর্বোচ্চ সুবিধার জন্য বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশান করুন!

> বাংলা ভাষায় সর্বপ্রথম সম্পূর্ণ প্রশ্ন-উত্তরভিত্তিক এবং সমস্যা সমাধানের উন্মুক্ত কমিউনিটি "হেল্পফুল হাব" এ আপনাকে স্বাগত, এখানে আপনি যে কোনো প্রশ্ন করে উত্তর নিতে পারবেন এবং কোনো প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানা থাকলে তা প্রদান করতে পারবেন।

Welcome to Helpful Hub, where you can ask questions and receive answers from other members of the community.

15.1k টি প্রশ্ন

16.8k টি উত্তর

5.9k টি মন্তব্য

6.6k জন নিবন্ধিত

0 টি ভোট
208 বার প্রদর্শিত


"ধর্ম ও বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন New User (13 পয়েন্ট)
সম্পাদিত করেছেন

1 উত্তর

0 টি ভোট

চাত্র ইমামের মতভেদের কারণ:

মুছাল্লিমুছ ছুবুত বইয়ে আছে- আল্লামা ইমাম রাজী (রহঃ) বলেছেন- বিজ্ঞ আলেমগণ জনসাধারণের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কিরামের তাকলিদ করা নিষিদ্ধ বলে একমত হয়েছেন। বরং যেসব বিজ্ঞ ইমাম গবেষণা করে কুরআন ও হাদীস হতে শরীয়তের সকল মাসয়ালা বের করে সবিস্তারে লিখে সুশৃঙ্খলভাবে সাজিয়েছেন, সে হিসেবে চারজন ইমাম কামিল। সেজন্য আল্লামা ইবনে ছেলাহ (রহঃ) উক্ত চারজন ইমাম বাদে অন্য কারো অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন।

কেননা, সাহাবায়ে কিরাম অধিকাংশ সময় যুদ্ধবিগ্রহ, ইসলাম প্রচার, ও অন্যান্য নানা রকম দায়িত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকায় বিশেষ করে তবলীগের জন্য দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়ায় শরীয়তের যাবতীয় মাসয়ালা আয়ত্ত করে লিপিবদ্ধ করতে পারেননি।

প্রকৃতপক্ষে ইমামগণ সাহাবাগণের মত-ই গ্রহণ করেছেন। যেহেতু সাহাবাগণ কোন কোন বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করতেন সেজন্য তাঁদের অনুসরণে ইমামগণেরও মতভেদ হয়েছে। কিছু উদাহরণ উল্লেখ করা হলঃ

১. হযরত উমার ফারুক (রাঃ) ও হযরত আঈশা সিদ্দীকা (রাঃ) বলতেন- ত্বালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ইদ্দত পর্যন্ত স্বামীর বাসায় থাকার স্থান ও খাবার পাবে (বুখারী) কিন্তু হযরত হাসান ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলতেন- উক্ত স্ত্রী খাবার ও বাসস্থান পাবে না। (মুসলিম)

ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ) প্রথম সাহাবাদ্বয়ের মত গ্রহণ করেছেন এবং ইমাম আহমদ (রহঃ) হযরত ইবনে আব্বাসের (রাঃ) মত গ্রহণ করেছেন।

২. হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) বলেছেন- যে মাছ নদীতে মরে ভাসতে থাকে তা হালাল (বুখারী), হযরত জাবির ও হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেন- তা হারাম।

ইমাম শাফী (রহঃ) ও ইমাম মালিক (রহঃ) প্রথম সাহাবার মত গ্রহণ করেছেন আর ইমাম হানীফা (রহঃ) ও ইমাম আহমদ (রহঃ) শেষোক্ত সাহাবাদ্বয়ের মত রহণ করেছেন।

৩.  হযরত উমর ফারুক (রাঃ) বলেছেন- নিরুদ্দেশ স্বামীর স্ত্রী ৪ বছর অপেক্ষা করে অন্য স্বামী গ্রহণ করতে পারে কিন্তু হযরত আলী (রাঃ) ও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেছেন- স্বামীর মৃত্যুর খবর না পাওয়া পর্যন্ত ঐ স্ত্রী অন্য স্বামী গ্রহণ করতে পারবেনা।

ইমাম মালিক (রহঃ) প্রথম সাহাবীর মত গ্রহণ করেছেন আর ইমাম হানীফা (রহঃ) শেষোক্ত সাহাবাদ্বয়ের মত গ্রহণ করেছেন।

এভাবে ইমামগণ সাহাবাগণের মতভেদ সূত্রেই বিভিন্ন মত গ্রহণ করার জন্যই তাদের মতও ভিন্ন হয়েছে। সাহাবাগণ হযরত রসূল (সঃ) এর মতে বা তাঁর মতের প্রতি ইজতিহাদ ও ক্বিয়াস করে চলেছেন এবং এই ইজতিহাদ ও ক্বিয়াস করার অনুমতি হযরত রসূল (সঃ) নিজে সাহাবীগণকে দিয়েছেন।

সাহাবাগণ যে সকল মাসয়ালায় একমত হয়েছেন চার ইমামও সেই মাসয়ালায় একমত হয়েছেন। অন্যদিকে সাহাবাগণ যে সকল মাসয়ালায় মতভেদ করেছেন চার ইমামও সে সকল মাসয়ালায় মতভেদ করেছেন। তবে কোন কোন মাসয়ালায় কয়েকজন সাহাবার মতের অমিল হওয়ায় ইমামগণ অধিকাংশ সাহাবার মতের উপর ইজমা করেছেন। অতএব, ইমামদের ইজমা অমান্য করা চলবে না।

হযরত রসূল (সঃ) অনেক আমল বিভিন্নভাবে করতেন, যেমনঃ 'আমীন' আস্তে বা জোরে বলা, নামাযের সময় হাত বাঁধা, তারাবীহ নামায ইত্যাদি। এছাড়াও কিছু বিষয় সম্বন্ধে নবী (সঃ) বিস্তারিত জানাননি বা সেসময়ে বিষয়গুলো জানার দরকার পড়েনি যেমনঃ ওযু করার সময় চোখের ভেতরে ও ভ্রু ধোয়া ফরয কিনা, মৃত ব্যক্তি হিজড়া হলে তাকে কয়টা কাপড়ে কাফন দিতে হবে, কোন স্থানে যদি পানি বা মাটি কিছুই না পাওয়া যায় তাহলে কীভাবে তায়াম্মুম করতে হবে, ইত্যাদি। এরকম বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাহাবাগণ তাদের জ্ঞান অনুযায়ী যেসব সিদ্ধান্ত দিয়েছেন ইমামগণ সেসব মেনেছেন আর অন্যান্য ক্ষেত্রে ইমামগণ নিজেদের জ্ঞান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

কয়েকজন ইমামের সম্বন্ধেঃ

১.  ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) হযরত হাম্মাদ (রাঃ) এর ছাত্র ছিলেন এবং হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ), ও হযরত আনাস (রাঃ) এর সাহচার্য্য লাভ করেছিলেন। এছাড়াও ইমাম হানীফা (রহঃ) হযরত ইমাম ছেমাক (রহঃ) এর কাছ থেকেও শিক্ষা লাভ করেছিলেন যিনি একজন সুবিখ্যাত তাবেয়ী ছিলেন, হযরত ছেমাক (রহঃ) ৮০জন সুবিখ্যাত তাবেয়ীর কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েছিলেন। বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত সুফিয়ান ছওরী (রহঃ) বলেছেন- ছেমাক (রহঃ) কখনো কোন হাদীস রেওয়াত করতে বিন্দুমাত্র ভুল করেনি।

২. ইমাম আহমাদ (রহঃ) তার নিজের ২ ছেলেসহ ইমাম বুখারী (রহঃ), ইমাম মুসলিম (রহঃ), ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) কে শিক্ষাদান করেছেন। তিনি হিজরি ২য় শতাব্দীর শেষভাগে তার সুবিখ্যাত হাদীসের বই 'মসনদ' প্রকাশ করেন। এটা ১৭২ খণ্ডে বিভক্ত ছিল ও এতে ৩০ হাজার হাদীস লিপিবদ্ধ ছিল। এতে হাদীসগুলোকে নবী করীম (সঃ) এর সাহাবাগণের নামানুসারে সাজানো আছে। তার ইন্তিকালের পরে তার ২ ছেলে আরো ১০ হাজার হাদীস যুক্ত করেন বইটাতে। এটাই হাদীস সংকলন বইগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়। ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেছেন- মোট সাতলক্ষ পঞ্চাশটি (৭০০০৫০) হাদীস বাছাই করে আমি আমার এই বই প্রণয়ন করেছি। কোন মুসলমানের মনে কোন হাদীস সম্বন্ধে সন্দেহ হলে বা কোন হাদীসের সত্যাসত্য নিয়ে বিরোধ উপস্থিত হলে তারা যেন এই বইয়ের সাথে তা মিলিয়ে দেখে। যদি হাদীসটি এতে পাওয়া যায় তবে তা গ্রহণ করবেন, নতুবা তা অবিশ্বাস্য।

ইমাম মালিক (রহঃ) এর সাথে ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) এর মাত্র ২০টি বিষয়ে মতভেদ আছে। আর ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) এর সাথে ইমাম শফেয়ী (রহঃ) এর মাত্র ৭০টি বিষয়ে মতভেদ আছে। ইমাম আহমাদ (রহঃ) এর সাথে ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) এর মাত্র ২টি বিষয়ে মতভেদ আছে।

শাফী মাযহাবের লোকেরা হাদীস অনুসারেই 'আমীন' জোরে বলে, ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়ে, রফাইয়াদাইন করে, বুকের উপর হাত বাঁধে। অন্যদিকে হানাফী মাযহাবের লোকেরা হাদীস অনুসারেই 'আমীন' মনে মনে বলে, ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়ে না, রফাইয়াদাইন করে না, ও হাত নাভীর নিচে বাঁধে।

কয়েকজন মুহাদ্দীসগণের ইমামঃ

শাফী মাযহাবঃ ইমাম মুসলিম, ইমাম তিরমিযী, ইমাম ইবনে মাজা, ইমাম নবিবী, ইমাম গাজ্জালী, ইমাম ইবিনে হাযার প্রমুখ।
হাম্বলী মাযহাবঃ ইমাম আবু দাউদ



এরকম মতভেদ সিহাহ সিত্তার ইমামগণের মধ্যেও আছে। যেমনঃ

১. ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেছেন- মুক্তাদীগণ ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়বে। কিন্তু ইমাম মুসলিম (রহঃ) ও ইমাম নাসায়ী (রহঃ) বলেছেন- মুক্তাদীগণের সূরা ফাতিহা পড়া নিষিদ্ধ। ইমাম তিরমিযী (রহঃ) ও ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) এই মত।

২. ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেছেন- মদ থেকে তৈরী সিরকা হারাম, কিন্তু ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেছেন- তা হালাল।

৩. ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেছেন- নাপাক অবস্থায় কুরআন পড়া নাজায়েয আর ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেছেন জায়েয প্রভৃতি।


লা-মাযহাবীদের জন্য কিছু প্রশ্নঃ

১. শুধু সিহাহ সিত্তার হাদীসগুলোই যে সহীহ তার প্রমাণ কী? তার আগেও তো অনেক হাদীসের বই বের হয়েছে যেমনঃ মুয়াত্তায়ে মালেক, মসনদে শাফী, মসনদে আহমাদ, মসনদে ইমাম আজম, কিতাবুল আছার, কিতাবুল আমালী, মসনদে আব্দুর রাজ্জাক, ইত্যাদি। মহামণিষীদের প্রণিত আগের বহু বছরের বই থাকতে সিহাহ সিত্তাহ কেন বেশি গ্রহণীয় হবে?

২.  নবী করীম (সঃ) এর সমগ্র জীবনের সুন্নাহকে  মাত্র ৬টা হাদীসের বইয়ে বর্ণনা করা সম্ভব?

৩.  কোরান হাদীসে তো চার ইমামের কথা বলা নেই। তাহলে আমরা কেন তাদের অনুসরণ করব?  এর পালটা প্রশ্ন হল- কোরানে তো প্রধান মুফাসসির, মুহাদদিস যেমনঃ ইমাম বুখারী (রহঃ), ইমাম মুসলিম (রহঃ) প্রমুখের নাম ও তো নেই। তবে তাদের মত গ্রহণ করেন কেন?

৪.  কোরানে আছে- "যে বস্তুর প্রতি আল্লাহর নাম নেওয়া হয় নি, তা খেয়ো না।" এখন কোন হালাল বস্তুর প্রতি বিসমিল্লাহ না পড়লে তা কি হারাম বলে ত্যাগ করবেন?

৫.  হিজড়া ব্যক্তির কাফনে কয়টা কাপড় দিতে হবে তা হাদীসের আলোকে দেখান।

৬.  ইবনে তায়মীয়া, ইবনে হাজম, দাউদে জাহেরী, মোহাম্মদ নজদী, প্রমুখ লা-মাযহাবী আলেমদের অনুসরণ করার  আদেশ কী কোরান-হাদীসে আছে? যদি না থাকে তবে তাদের অনুসরণ করে আপনারাও মুকাল্লিদ হয়ে মুশরিক হয়ে যাচ্ছেন। এদের অনুসরণ করায় দোষ নেই কেন?

 

 

Signature:

"সৎ কাজ করার চেয়ে সৎ সঙ্গ অধিক উত্তম।"
উত্তর প্রদান করেছেন Expert Senior User (6.4k পয়েন্ট)
সম্পাদিত করেছেন

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর
01 জুন 2017 "ধর্ম ও বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন GrManik Senior User (144 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর
0 টি ভোট
2 টি উত্তর
16 জুলাই 2013 "ধর্ম ও বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন অজ্ঞাত সদস্য

 

(হেল্পফুল হাব এ রয়েছে এক বিশাল প্রশ্নোত্তর ভান্ডার। তাই নতুন প্রশ্ন করার পূর্বে একটু সার্চ করে খুঁজে দেখুন নিচের বক্স থেকে)

(হেল্পফুল হাব সকলের জন্য উন্মুক্ত তাই এখানে প্রকাশিত প্রশ্নোত্তর, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর)

...