বাংলায় সর্বপ্রথম, সর্ববৃহৎ ও সর্বাধিক জনপ্রিয় প্রশ্ন-উত্তরভিত্তিক ও সমস্যা সমাধানের উন্মুক্ত কমিউনিটি "হেল্পফুল হাব" এ আপনাকে স্বাগত, এখানে আপনি যে কোনো প্রশ্ন করে উত্তর নিতে পারবেন একদম বিনামূল্যে এবং কোনো প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানা থাকলে তা প্রদান করতে পারবেন। রেজিস্ট্রেশান না করেই অংশগ্রহণ করতে পারবেন তবে, সর্বোচ্চ সুবিধার জন্য বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশান করুন!

> বাংলা ভাষায় সর্বপ্রথম সম্পূর্ণ প্রশ্ন-উত্তরভিত্তিক এবং সমস্যা সমাধানের উন্মুক্ত কমিউনিটি "হেল্পফুল হাব" এ আপনাকে স্বাগত, এখানে আপনি যে কোনো প্রশ্ন করে উত্তর নিতে পারবেন এবং কোনো প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানা থাকলে তা প্রদান করতে পারবেন।

Welcome to Helpful Hub, where you can ask questions and receive answers from other members of the community.

15.1k টি প্রশ্ন

16.7k টি উত্তর

5.8k টি মন্তব্য

6.4k জন নিবন্ধিত

0 টি ভোট
169 বার প্রদর্শিত

তাছাউফ বা তরিকার চর্চা কি ইসলামে অনুমোদিত ? ইসলামে এ ব্যাপারে কোন আপত্তি আছে কিনা ? 

"ধর্ম ও বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (-10 পয়েন্ট)

2 উত্তর

0 টি ভোট
'তাসাউফ' শব্দের উৎস ও অর্থঃ

তাসাউফ শব্দটি প্রাথমিক যুগে ছিল না, পরবর্তী যুগে শব্দটি তৈরি হয়েছে। শব্দটার উৎস নিয়ে অনেক অনেক মত প্রকাশ করেছেন কিন্তু মুহাক্কীকিনদের মতে শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে (صفو) ধাতু থেকে। পরে قلب مكا نى করে تصو ف করা হয়েছে। এর অর্থ হয়েছে صفا ىى (ইয়া এর উপরে একটা হামযা হবে) ছাফায়ী অর্থাৎ ভেতর-বাইরের পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা। নফসের ইসলাহ করা ইলমে তাসাউফ-এর শিক্ষাগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। নফসের উন্নয়ন বাদে নিজের চরিত্র সঠিকভাবে গড়ে তোলা ও ইসলামের বিভিন্ন বিষয় যথার্থভাবে উপলব্ধি করা অসম্ভব। তাসাউফ শব্দের অর্থ মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গের এবং পশুর আত্মা, হিংস্র জন্তুর আত্মা, শয়তানের আত্মা, মানবের আত্মা, ও ফিরিশ্তার আত্মা এই পাঁচ প্রকারের আত্মার সমন্বয়ে; মানবাত্মার মধ্যে পশুর আত্মা, হিংস্র জন্তুর আত্মা, ও শয়তানের আত্মা হতে যেসব ময়লা অনবরত আসতে থাকে, মানুষের বিবেককে কাম, ক্রোধ, লোভ ইত্যাদি রিপুর যে সব ময়লা অনবরত আচ্ছন্ন করতে থাকে সে সব ময়লা হতে মানবাত্মাকে এবং মানুষের বিবেককে অনবরত তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।

আল্লাহ বলেছেন, "তোমরা আমার স্মরণে সালাত প্রতিষ্ঠা কর।" অর্থাৎ নামাযের মধ্যে আল্লাহ্‌র স্মরণ করা ফরয। একজন মুসলিম শুধু নামায সংক্রান্ত সূরা-কালাম ও আল্লাহ্‌র স্মরণ নামাযে করবে, অন্য কিছুর স্মরণ করা নিষিদ্ধ। এখন সূরা পড়া ও নামাযের বাহ্যিক যে রুপ আমরা দেখি তা পালন করা যদি যিকিরের পর্যায়ে পড়ে তবে আল্লাহ বিশেষ করে আল্লাহকে স্মরণ করতে বলতেন না নিশ্চয়। আর এই স্মরণ বাদ গেলে নামাযের একটা ফরযও আদায় বাদ যাবে। এই যিকির একজন কীভাবে করবেন? ঠিক এই স্মরণের অভাবের জন্যই এখন অনেক আলিমগণের নামায সাহাবাগণের নামাযের মত হয়না। সুপ্রসিদ্ধ একটা ঘটনা আছে যেখানে হযরত আলী (রাঃ) নামায আদায়কালীন তাঁর পা থেকে একটা শলাকা বের করা হয়েছিল কিন্তু তিনি কিছুই টের পেয়েছিলেন না।

এছাড়া নবীজী (সঃ) নবুয়্যত লাভের দিন যখন সূরা পাঠ করতে পারলেন না তখন জিবরাঈল (আঃ) তাঁকে ৪ বার বুকে চেপে ধরলেন এবং এরপরে নবীজী পড়তে পারলেন। এটার ব্যাখ্যা কী?

নবীজীর (সঃ) সময়ে সাহাবীগণ ইলমে তাসাউফ চর্চা করতেন কি?

-আসলে সাহাবাগণ নবীজীর (সঃ) পাক-পবিত্র সোহবতের (সঙ্গ) বরকতে এমন ফয়েয লাভ করতেন যে, তাঁদের তসবিহ-যিকির করার দরকারই হত না। সাহাবাগণের সময়েও ইলমে তাসাউফ নামে কোন শব্দ ছিল না। পরবর্তীতে তাবেঈগণের ও তাবে-তাবেঈনগণের সময় থেকে এই শব্দের প্রচলন হয়েছে। Sufism নামে যে মতবাদ প্রচলিত আছে তা আর ইলমে তাসাউফ সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্তমান সময়ে আল্লাহর অলীগণের সান্নিধ্যে থাকলেও তসবিহ-যিকির কম করলে চলে।

ইলমে তাসাউফ শিক্ষা করা ফরয, ওয়াজিব, সুন্নাত, না মস্তাহাব?

- তাসাউফের মধ্যে ৪ প্রকার বিষয় শিক্ষা দেওয়া ও পালন করা হয়। যথাঃ
১. মুর্শিদের হাতে হাত দিয়ে বায়াত হওয়া।
২. মুর্শিদের সোহবতে (সান্নিধ্যে) থাকা।
৩. নফসের ইসলাহ করা।
৪. মুর্শিদের (শব্দটি 'পথ-প্রদর্শক' অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে) দেখানো পদ্ধতি অনুযায়ী আল্লাহর যিকির করা।

এই ৪ রকম বিষয়ের মধ্যে মুর্শিদের দেখানো পদ্ধতি অনুযায়ী আল্লাহর যিকির করা ফরয, ওয়াজিব, বা সুন্নাত নয় কিন্তু যার সময় আছে তার জন্য মুস্তাহাব এবং সমাজে কামিলে মুকাম্মিল মুর্শিদ বাকী রাখার জন্য, সেরকম যোগ্য মানুষ গড়ে তোলার জন্য যোগ্য মুহাক্কিক হক্কানী মুর্শিদের দ্বারা অর্জন করা ফরযে-কিফায়া।

এখনকার সময়ে যদি হক্কানী মুহাক্কিক আলিম পাওয়া যায়, তবে তার হাতে হাত দিয়ে বায়াত (শব্দটি "শপথ নেওয়া" অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে) হওয়া সুন্নাত। নফসের ইসলাহ করা অর্থাৎ বিশ্বাস মজবুত করা, ইবাদত-আমল সঠিকভাবে করা, কুপ্রবৃত্তিকে দমন করা, চরিত্র ঠিক করা ফরয। আর এই ফরয পালন করার জন্য হক্কানী মুর্শিদ বা আলিমের সঙ্গ অর্জন করা দরকার। কাজেই কুসংসর্গ ত্যাগ করা ও নেক সঙ্গ অর্জন করা ওয়াজিব।

সোহবতের অর্থ (সান্নিধ্য অর্থে শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে) কামিল আলিমের সাথে থেকে নিজের ভুল-ত্রুটি তাকে জানিয়ে, তার কাছে জিজ্ঞাসা করে, তার উপদেশ অনুযায়ী আমল করা, চর্চা করা, সংযম অভ্যাস করা, সাধনা করা। এভাবেই মানুষ মানুষ হতে পারে। এরকম চরিত্র গঠন করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য।

বুখারী শরীফের বাঙলা অনুবাদ যে হক্কানী আলিম দেখে দিয়েছিলেন তিনি হলেন মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহঃ)। ইনি একজন আল্লাহর অলী ছিলেন আর উনি চিশতীয়া তরীকাপন্থী ছিলেন সম্ভবত। সম্ভবত এজন্য বলছি যে উনার শাজারা (শব্দটি দ্বারা ইলমে তাসাউফ শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষকগণের তালিকাকে বোঝায় অর্থাৎ বর্তমান মুর্শিদের শিক্ষক কে ছিলেন, তার শিক্ষক কে ছিলেন এর তালিকা) দেখে আমার তাই মনে হয়েছে।

শুধু কুরআন ও হাদীস পড়েই আত্মশুদ্ধি করা গেলে শিক্ষকের কোনই দরকার পড়ত না। হক্কানী আলিম যিনি ফরয, ওয়াজিব, ও সুন্নাত যথার্থভাব পালন করেন এবং যার নিজের নফসের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ আছে তার কাছ থেকে শরীয়তের হুকুম-আহকাম জানা, পালন করার পদ্ধতি শেখা, ও নফসের সংশোধন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক। তবে এরকম হক্কানী আলিমগণের সংখ্যা দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। যারা ইলমে তাসাউদের নামে ভণ্ডামী করে তাদের কারণে ইলমে তাসাউফকে মন্দ বলা বোকামী। আর কোন ব্যক্তি যদি মনে করেন যে, তার নিজের নফসের উপর নিজের ভাল নিয়ন্ত্রণ আছে, নামাযসহ অন্যান্য ইবাদত একাগ্রতার সাথে আদায় করতে পারেন (আল্লাহর চিন্তা বাদে আর কিছুই মনে আসে না) তাহলে তার ইলমে তাসাউফের দরকার নেই।

নিচের বইটা থেকে অনেক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছেঃ

তাছাওওফ তত্ত্ব- আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী (রহঃ)।

 

 

Signature:

"সৎ কাজ করার চেয়ে সৎ সঙ্গ অধিক উত্তম।"
উত্তর প্রদান করেছেন Expert Senior User (6.4k পয়েন্ট)
0 টি ভোট

এক–পৃথিবীর সূচনাকাল থেকেই আল্লাহ্‌পাক হেদায়েতের দুটি ধারা অব্যাহত রেখেছেন। একটি ধারার নাম হলো, কিতাবুল্লাহ। আর অপর ধারার নাম হলো, রিজালুল্লাহ। রিজালুল্লাহ অর্থ এমন ব্যক্তিত্ব, যারা তাফাক্কুহ ফিদ্দীন তথা দ্বীনি বিষয়ে পরাঙ্গম ও আমলি-নমুনা, রুসূখ ফিল ইলম তথা ইলমি-গভীরতায় লব্ধ এবং তাকওয়া ও আল্লাহভীতির গুণে গুণান্বিত হবেন। যারা নিজেদের কর্ম ও আচরণ এবং সূরত ও চরিত্রের মাধ্যমে ইসলামী আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করবেন আর অন্যের জন্য উসওয়ায়ে হাসানা তথা উত্তম আদর্শ হবেন। যাদের ইখলাস ও লিল্লাহিয়্যাত সকল সন্দেহ-সংশয়ের উর্দ্ধে থাকবে, যারা হবেন মুসলিম উম্মাহর ব্যথায় ব্যথিত এবং উম্মাহর কল্যাণে শরীয়তের বিধান মোতাবেক বিভিন্ন অঙ্গনে নিবেদিত। 

দুই–উপরিউক্ত রিজালুল্লাহরই একটি শ্রেণির নাম পীর। শব্দটি ফার্সি। আরবীতে বলা হয় মুরশিদ।মুরশিদ শব্দের অর্থ হল পথপ্রদর্শক। যিনি আল্লাহর আদেশ নিষেধ আল্লাহ তাআলা যেভাবে চান সেভাবে পালন করার প্রশিক্ষণ দেন তার নাম মুরশিদ বা পথপ্রদর্শক।

আর মুরীদ শব্দটি আরবী। যার অর্থ হল ইচ্ছাপোষণকারী। যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ-নিষেধ আল্লাহ তাআলা যেভাবে চান সেভাবে পালন করার ইচ্ছা পোষণ করে কোন পীরের হাত ধরে শপথ করে সে ব্যক্তির নাম হল মুরীদ।
এ ব্যাখ্যা থেকে একথা স্পষ্ট হল যে, পীর হবেন শরীয়তের আদেশ নিষেধ পালন করার প্রশিক্ষণদাতা। আর যিনি সে প্রশিক্ষণ নিতে চায় সে শিক্ষার্থীর নাম হল মুরীদ।

তিন– পীর মুরীদির এ পদ্ধতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে চলে আসছে। কোরআন ও হাদীসে মুরীদ হওয়ার বিষয়টি এসেছে بيعة ‘বায়আত’ নামে। বায়আত প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন,

إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللَّهَ يَدُاللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ فَمَنْ نَكَثَ فَإِنَّمَا يَنْكُثُ عَلَى نَفْسِهِ وَمَنْ أَوْفَى بِمَا عَاهَدَ عَلَيْهُ اللَّهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا

‘যারা আপনার কাছে ‘বায়আত’ তথা আনুগত্যের শপথ করে, তারা তো আল্লাহর কাছে ‘বায়আত’ তথা আনুগত্যের শপথ করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপর রয়েছে। অতএব, যে শপথ ভঙ্গ করে; অতি অবশ্যই সে তা নিজের ক্ষতির জন্যেই করে এবং যে আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে; আল্লাহ সত্ত্বরই তাকে মহাপুরস্কার দান করবেন।’ (সূরা আল ফাতহ ১০)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদেরকে ‘বায়আত’ করেছেন এবং আল্লাহমুখী হওয়ার প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। সুতরাং বলা যায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন সবচেয়ে প্রথম ও বড় পীর, ও সাহাবায়ে কিরাম হলেন প্রথম মুরীদ।

চার– রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে যে ‘বায়আত’ ছিল তা হলো বায়আতে-রাসূল। খিলাফাতের যুগে ছিল বায়আতে-খিলাফাহ। খিলাফাতের পর যে বায়আতের প্রচলন শুরু হয় তা হলো বায়আতে-তাকওয়াহ বা বায়আতে-তাওবা। উম্মতকে শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদেরকে এ ধরনের ‘বায়আত’ও করেছেন। এ মর্মে বহু হাদীস পাওয়া যায়। যেমন সহীহ বুখারীর এক হাদীসে এসেছে-

حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو إِدْرِيسَ، عَائِذُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ ـ رضى الله عنه ـ وَكَانَ شَهِدَ بَدْرًا، وَهُوَ أَحَدُ النُّقَبَاءِ لَيْلَةَ الْعَقَبَةِ ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَحَوْلَهُ عِصَابَةٌ مِنْ أَصْحَابِهِ ‏ “‏ بَايِعُونِي عَلَى أَنْ لاَ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا، وَلاَ تَسْرِقُوا، وَلاَ تَزْنُوا، وَلاَ تَقْتُلُوا أَوْلاَدَكُمْ، وَلاَ تَأْتُوا بِبُهْتَانٍ تَفْتَرُونَهُ بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَأَرْجُلِكُمْ، وَلاَ تَعْصُوا فِي مَعْرُوفٍ، فَمَنْ وَفَى مِنْكُمْ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ، وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَعُوقِبَ فِي الدُّنْيَا فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَهُ، وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا ثُمَّ سَتَرَهُ اللَّهُ، فَهُوَ إِلَى اللَّهِ إِنْ شَاءَ عَفَا عَنْهُ، وَإِنْ شَاءَ عَاقَبَهُ ‏”‏‏.‏ فَبَايَعْنَاهُ عَلَى ذَلِكَ‏.‏

‘উবাদা ইবনুস সামিত রাযি‏.‏ বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পার্শ্বে একদল সাহাবীর উপস্থিতিতে তিনি ইরশাদ করেন, তোমরা আমার কাছে এই মর্মে বায়আত গ্রহণ কর যে, আল্লাহ্‌র সঙ্গে কিছু শরীক করবে না, চুরি করবে না, যিনা করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, কাউকে মিথ্যা অপবাদ দেবে না এবং নেক কাজে নাফরমানী করবে না। তোমাদের মধ্যে যে তা পূরণ করবে, তার বিনিময় আল্লাহ্‌র কাছে। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং দুনিয়াতে তার শাস্তি পেয়ে গেলে, তবে তা হবে তার জন্য কাফ্‌ফারা। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং আল্লাহ্ তা অপ্রকাশিত রাখলে, তবে তা আল্লাহ্‌র ইচ্ছাধীন। তিনি যদি চান, তাকে মাফ করে দেবেন আর যদি চান, তাকে শাস্তি দেবেন। আমরা এর উপর বায়আত গ্রহণ করলাম।(সহীহ বুখারী হাদীস নং ১৭)

পাঁচ– উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়, পীর-মুরীদি তথা বায়আত করা শরীয়ততসম্মত কাজ। স্বনামধন্য মুহাদ্দিস আবদূল হক্ব মুহাদ্দেসে দেহলভী রহ. তার ‘কওলুল জামিল’ কিতাবে লিখেন বায়আত গ্রহন করা সুন্নাত। তাসাউফ শিখতে হলে অবশ্যই কামেল মুহাক্কেক পীরের নিকট বায়আত গ্রহন করতেই হবে। যত্র তত্র বায়আত গ্রহন করা নিষিদ্ধ।
অথচ অজ্ঞ ও সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত কিছু লোক মানুষকে রিজালুল্লাহ থেকেই বিচ্ছিন্ন করতে চায়। এমনটি হলে দ্বীন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার সম্ভাবনা হয় প্রবল এবং মানুষের ধর্মীয় দিকটি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে যায়।
আর যে ব্যক্তি নিজেই শরীয়তের বিধান মানে না, নামায পড়ে না, পর্দা করে না, সতর ঢেকে রাখে না বা শরীয়তের আবশ্যকীয় কোন বিধান পালন করে না, সে ব্যক্তি তো পীরই হতে পারে না। কারণ তার নিজের মাঝেই যখন শরীয়ত নেই, সে কিভাবে অন্যকে শরীয়তের উপর আমল করা প্রশিক্ষণ দিবে!

সুতরাং পীর ধরার ক্ষেত্রে খুবই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। দেওয়ানবাগী, কুতুববাগী, রাজারবাগী, সুরেশ্বরী, ফরীদপুরী, এনায়েতপুরী, চন্দ্রপুরী, কামাল্লার ভন্ড পীর, মাইজভান্ডারী, কেল্লাবাবা, খাজাবাবা, রেজভী, এসব ভন্ড ও ঈমানবিধ্বংসী পীরের কাছে গেলে আখেরাত ধ্বংস হবে এতে কোন সন্দেহ নেই।

জাযাকুমুল্লাহ।

উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী
সুত্রঃ http://quranerjyoti.com
উত্তর প্রদান করেছেন Junior User (92 পয়েন্ট)

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
5 টি উত্তর
+1 টি ভোট
2 টি উত্তর
0 টি ভোট
2 টি উত্তর

 

(হেল্পফুল হাব এ রয়েছে এক বিশাল প্রশ্নোত্তর ভান্ডার। তাই নতুন প্রশ্ন করার পূর্বে একটু সার্চ করে খুঁজে দেখুন নিচের বক্স থেকে)

(হেল্পফুল হাব সকলের জন্য উন্মুক্ত তাই এখানে প্রকাশিত প্রশ্নোত্তর, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর)

...