বাংলায় সর্বপ্রথম, সর্ববৃহৎ ও সর্বাধিক জনপ্রিয় প্রশ্ন-উত্তরভিত্তিক ও সমস্যা সমাধানের উন্মুক্ত কমিউনিটি "হেল্পফুল হাব" এ আপনাকে স্বাগত, এখানে আপনি যে কোনো প্রশ্ন করে উত্তর নিতে পারবেন একদম বিনামূল্যে এবং কোনো প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানা থাকলে তা প্রদান করতে পারবেন। রেজিস্ট্রেশান না করেই অংশগ্রহণ করতে পারবেন তবে, সর্বোচ্চ সুবিধার জন্য বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশান করুন!

> বাংলা ভাষায় সর্বপ্রথম সম্পূর্ণ প্রশ্ন-উত্তরভিত্তিক এবং সমস্যা সমাধানের উন্মুক্ত কমিউনিটি "হেল্পফুল হাব" এ আপনাকে স্বাগত, এখানে আপনি যে কোনো প্রশ্ন করে উত্তর নিতে পারবেন এবং কোনো প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানা থাকলে তা প্রদান করতে পারবেন।

Welcome to Helpful Hub, where you can ask questions and receive answers from other members of the community.

15k টি প্রশ্ন

16.7k টি উত্তর

5.8k টি মন্তব্য

6.4k জন নিবন্ধিত

+1 টি ভোট
1.2k বার প্রদর্শিত
"ধর্ম ও বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন

2 উত্তর

0 টি ভোট

ইসলামের খুটি ৫টি।
কালেমা
নামাজ
রোযা
হজ্জ
যাকাত

ঠিক মত রোযা রাখলে অবশ্যই রোযা হবে।
কিন্তু মুসলমান হিসেবে অবশ্যই প্রথম ৩টি খুটির কোনটিই বাদ দেয়া মারাত্নক গুনহার কাজ হবে (বাকি ২টি যেহেতু আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভশীল)

 

 

Signature:

www.shamuk.tk
উত্তর প্রদান করেছেন Expert Senior User (1.4k পয়েন্ট)
0 টি ভোট

শুধু মাত্র না খেয়ে থাকার নাম কিন্ত রোজা না
রোজার মাধ্যমে বান্দা আত্মশুদ্ধি অর্জন করে। একমাস রোজা রেখে বাকি এগার মাস নিজেকে পাপমুক্ত রাখার সংকল্প গ্রহণ করেন মুসলমানরা। রোজা মানুষকে গরিব-দুঃখীর কষ্ট অনুধাবনে সহায়তা করে। একজন রোজাদার যখন সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাদ্য ও পানীয় থেকে বিরত থাকেন তখন তিনি বাস্তবিকই অনুভব করেন অনাহারে থাকা গরিব মানুষের জীবন যন্ত্রণা। তাই একজন রোজাদার রোজার মাধ্যমে সহমর্মিতা ও সহনশীলতার শিক্ষা লাভ করেন। রোজা মানুষকে চরম ধৈর্য শিক্ষা দেয়। সামনে হালাল খাদ্য ও পানীয় এবং তা গ্রহণ করার শক্তি থাকা সত্ত্বেও ক্ষুধা ও তৃষ্ণা নিবারণ না করে নির্ধারিত সময়ের জন্য অপেক্ষা করেন একজন মুসলমান। এমন ধৈর্যের সুন্দর নিদর্শন আর কী হতে পারে? রোজা মানুষকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রতা সাধনের শিক্ষা দেয়। পরিমিত আহার, নিদ্রা করে সুস্থ জীবনযাপনের শিক্ষা দেয়। শিক্ষা দেয় কঠোর পরিশ্রমের। সারাদিন রোজা আবার রাতে তারাবিহ ও তাহাজ্জুদ। সিয়াম কিয়ামের এই কঠিন প্রশিক্ষণে মানুষ হতে পারে ভদ্র ও সুশীল। রোজা মানুষকে সুশৃংখল হতে সাহায্য করে। মানবের মধ্যে যত খারাপ চরিত্র আছে তা ধুয়ে-মুছে ফেলে এই রোজা। যে ব্যক্তি রোজা রাখেন তিনি কখনও অন্যকে কষ্ট দিতে পারেন না। তিনি মিথ্যা কথা বলতে পারেন না। পারেন না কোনো হারাম কর্ম করতে। কোরআনের আলোয় আলোকিত হয়ে একজন মুসলিম তার সুবাতাস সমাজে ছড়িয়ে গড়তে পারেন সুন্দর সমাজ।
কিন্তু কঠিন বাস্তবতা হচ্ছে—বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমান রোজার আসল শিক্ষার কোনো ধার ধারেন না। প্রত্যেক বছর রোজা এলেই এদেশে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়। এই দ্রব্যমূল্য কোনো অমুসলিমরা বাড়ায় না; বাড়ান আমাদের দেশের কথিত মুসলিম ব্যবসায়ীরা। যাদের কাছে রমজানের শিক্ষার চেয়ে ব্যবসাই বড়। তাই যেভাবেই হোক সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিয়ে মুনাফা করতেই হবে। রোজার শিক্ষা ব্যবসায়ীদের মাঝে থাকলে দ্রব্যমূল্য না বেড়ে বরং কমে যেত; যেরকমটি আমরা লক্ষ্য করি পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতসহ অন্যান্য মুসলিম-অমুসলিম দেশে। সেখানে তাদের ধর্মীয় উত্সবের সময় ব্যবসায়ীরা বিনা লাভে বা অর্ধেক মূল্যে পণ্য বিক্রি করেন।
এদেশে রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য বাড়ার ক্ষেত্রে আমরা কথিত মুসলমানরাই বা কম দায়ী কিসে? কেননা আমরা রমজান এলেই রাক্ষুসে চরিত্র ধারণ করি। কিসের কৃচ্ছ্রতা সাধন! রোজার মাসে আমাদের খাই খাই স্বভাব বেড়ে যায় বহুগুণে। সারাদিন না খেয়ে থাকার কাজা আদায় করি ইফতার ও সাহরিতে ভূরিভোজের মাধ্যমে। বছরে একমাস রোজা রাখি, তাই ইফতার হতে হবে শত রকমের! বুট, মুড়ি, ছোলা, পিঁয়াজু, হালিমসহ নানা ধরনের আইটেম খেতে খেতে সালাতুল মাগরিবের জামাত ছুটে যায়। কোনোরকম বাড়িতে বসে দায়সারা নামাজ পড়ে বিছানায় কাত। সারাদিন অভুক্ত থেকে হঠাত্ বেশি খাওয়াতে শরীর তো নেতিয়ে পড়বেই; ওই অবস্থায় তারাবিহর নামাজ আদায় করা একটু দুরূহ বটে। যে দেশের রোজাদাররা খাওয়ার জন্য এত পাগল সে দেশের ব্যবসায়ীরা একটু দাম বাড়ালে দোষ কী তাতে? ব্যবসায়ীরা জানেন, বাঙালি মুসলমান দাম যত বাড়াই না কেন খাবারে পিছু হটবে না।
ওদিকে অনেকে রোজাকে নিছক আনুষ্ঠানিকতার ফ্রেমে বন্দি করেছেন। সিয়াম-কিয়াম সবই চলছে; কিন্তু নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী রোজা রাখেন তো নামাজ পড়েন না। কোন মসজিদে কত তাড়াতাড়ি খতম তারাবিহ শেষ হবে চলে তার পাল্লা। কোনো কোনো মসজিদে বিশ দিনে, পনের দিনে, দশ দিনে আবার পাঁচ দিনেও খতম তারাবিহ হয়। খতম তারাবিহর নামে কোরআন ও আল্লাহর সঙ্গে বেয়াদবি ও তামাশা চলে। অনেকে কোরআন খতম করেন বহুবার। কোরআন পড়ায় ইবাদত হলেও অর্থ না বুঝে পড়ায় লাভ হয় না মোটেও। কোরআনের আলোয় আর আলোকিত হতে পারি না আমরা।
অনেকে রোজা রাখেন বটে কিন্তু পাপ কর্ম ছাড়েন না। কেউ কেউ অবশ্য প্রকাশ্য পাপ বাদ দিয়ে কিছুটা আড়ালে-আবডালে করতে চান। ঘুষের টাকা নিজে গ্রহণ না করে পিয়ন দিয়ে রাখার ব্যবস্থা করেন। নিজ হাতে সরাসরি অবৈধ লেনদেন না করে টেবিলের ড্রয়ার খুলে ইশারা করেন ওখানে রাখার জন্য। কেউ কেউ আবার ইফতারের পর সারেন...।
রাজনীতিবিদরা পিছিয়ে থাকবেন কেন? তারাও ব্যবসায়ীদের মতো নেমে পড়েন ব্যবসায়। তাদের ব্যবসা অন্যরকম। মানে ধর্ম ব্যবসা। ঠিক মতো নামাজ-রোজা করেন কিনা তার ঠিক-ঠিকানা না থাকলেও রোজার মাসে ঘন ঘন ইফতার মাহফিল আয়োজন করেন; শুভেচ্ছা বিনিময়, সামাজিকতা রক্ষা, অস্তিত্ব রক্ষা কিংবা নির্বাচনে জনগণের সহানুভূতি লাভ এসবই থাকে মূল উদ্দেশ্য। এ মাসে অনেক এতিম অনাথের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়। সারাবছর কেউ খোঁজখবর না রাখলেও কপাল ভালো থাকলে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীর সঙ্গে ইফতারের ভাগ্য জোটতে পারে।
আসল খেলা শুরু হয় ঈদের বাজার নিয়ে। সারা মাস রোজা না রাখলেও ঈদের আনন্দে পিছিয়ে থাকবেন কেন? ঈদ করতে তো আর না খেয়ে থাকা লাগে না। তাই সারা রোজার মাসে চলে ঈদের কেনাকাটার ধুম। কে কত দামে ঈদের পোশাক কিনতে পারে তার একটা কঠিন লড়াই চলে এখানে। দোকানদাররাও চাতকের মতো তাকিয়ে থাকেন কখন ললনারা এসে ভিড় জমান তাদের বন্দরে। দুই পয়সা কামানোর এটাই বড় মৌসুম। বাস-ট্রেন, লঞ্চ-স্টিমার যেখানে যাবেন টিকিট নেই। কালোবাজারিরা আগেই টিকিট নিয়ে উধাও! টিকিট পেতে চান তো ডাবল পয়সা বাড়িয়ে দিন। আগের মতো ঈদের সার্বজনীনতাও হারিয়ে গেছে। ঈদের আনন্দ এখন ফেরকাবন্দি হয়ে গেছে। বাড়িতে বাড়িতে ঈদের জামাত। জামাত শেষে দায়সারা কোলাকুলি। মুখচেনা, পরিচিত ও বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে সীমিত হয়ে গেছে ঈদের আনন্দ। ঈদ আনন্দে ধর্মীয় আমেজ নষ্ট হয়ে সেখানে ভর করেছে পাশ্চাত্য কালচার। নাচ-গান, পানীয়ের আসর, আতশবাজি আর পটকাবাজি না হলে কি আর ঈদ আনন্দ হয়? আমাদের এই শঠতা ও ভণ্ডামির কারণেই রোজা আমাদের জীবনকে আর পরিশুদ্ধ করতে পারে না। আমাদের জীবন সুন্দর হওয়ার বদলে হয় আরও অসুন্দর। হিংসা, বিদ্বেষ, মারামারি, কাটাকাটি ও ঝগড়া-বিবাদ থেকে যায় আগের মতো। প্রত্যেক বছর রোজা আসে রোজা যায় কিন্তু আমাদের কোনো পরিবর্তন হয় না। রোজাকে আনুষ্ঠানিকতার ফ্রেমে বন্দি করার কারণে এ দিয়ে আর তাকওয়া অর্জন হয় না। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত নছিব হয় না অনেকেরই।
আসুন আমরা রমজানকে আল্লাহর রাসুল ও তাঁর সাহাবিরা যেভাবে উদযাপন করেছেন সেভাবে উদযাপন করি। রমজানের শিক্ষাকে বুকে ধারণ করি। তাকওয়ার রঙে রঙিন করি জীবন। রমজান এলে খাওয়া না বাড়িয়ে বরং কমিয়ে দিই; পারলে গরিব মিসকিনকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করি। ইবাদত-বন্দেগিতে বেশি বেশি মশগুল হই। ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একে অপরের সহযোগিতায় এগিয়ে আসি। সব ধরনের হিংসা, বিদ্বেষ, ঝগড়া-বিবাদ, গীবত ও তাবত্ কুকর্ম থেকে জীবনকে মুক্ত রাখি। আল্লাহর দেয়া কিতাব কোরআনকে হৃদয় দিয়ে বুঝার চেষ্টা করি। রোজার শিক্ষা ছড়িয়ে পড়ুক সমানভাবে ধনী-গরিব, সাদা-কালো, লম্বা-খাটো সবার তরে এই প্রত্যাশায়

উত্তর প্রদান করেছেন Senior User (155 পয়েন্ট)

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর
+1 টি ভোট
3 টি উত্তর
0 টি ভোট
2 টি উত্তর
16 জুলাই 2013 "ধর্ম ও বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন অজ্ঞাত সদস্য
+2 টি ভোট
2 টি উত্তর
0 টি ভোট
1 উত্তর
29 জুন 2013 "ধর্ম ও বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন অজ্ঞাত সদস্য

 

(হেল্পফুল হাব এ রয়েছে এক বিশাল প্রশ্নোত্তর ভান্ডার। তাই নতুন প্রশ্ন করার পূর্বে একটু সার্চ করে খুঁজে দেখুন নিচের বক্স থেকে)

(হেল্পফুল হাব সকলের জন্য উন্মুক্ত তাই এখানে প্রকাশিত প্রশ্নোত্তর, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর)

...